• All
  • Category 1
  • Category 2
gravatar

মাধ্যমিক স্কুলে কমিটি করবে ছাত্রলীগ

মাধ্যমিক স্কুলে কমিটি করবে ছাত্রলীগ

নিজস্ব প্রতিবেদক |

মাধ্যমিক স্কুলে কমিটি তৈরি করতে সব সাংগঠনিক ইউনিটকে নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ। সংগঠনটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের স্বাক্ষর করা এক বিজ্ঞপ্তিতে এ নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদ এ নির্দেশ দেয়।
ছাত্রলীগের সভাপতি সাইফুর রহমান সোহাগ আজ বুধবার রাতে প্রথম আলোকে বলেন, ‘স্কুলে কমিটি মোটেও নতুন কিছু নয়। আমাদের গঠনতন্ত্রে স্কুল কমিটি করার বিষয়টি আছে। আমাদের স্কুলছাত্রবিষয়ক সম্পাদকও আছে।’
খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, শুধু ছাত্রলীগ নয়—ছাত্রদল, ছাত্র ইউনিয়নসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের স্কুল পর্যায়ের কমিটি আছে। আর এ রীতি চালু আছে দীর্ঘদিন ধরে। এসব সংগঠনের গঠনতন্ত্রেই স্কুল কমিটি করার বিষয়টি উল্লেখ আছে।
তবে স্কুল পর্যায়ে ছাত্রসংগঠনের কমিটির বিরোধিতা করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের অধ্যাপক সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম। তিনি বলেছেন, ‘স্কুলের শিক্ষার্থীদের কাজ লেখাপড়া করা, খেলাধুলা, বিতর্ক বা অন্যান্য সাংস্কৃতিক চর্চা করা। এখানে তাদের রাজনীতি শেখানোর কোনো দরকার নেই।’ শুধু স্কুল নয়, কলেজ পর্যায়েও ছাত্রসংগঠনের বিরোধিতা করেন এই শিক্ষাবিদ।
ছাত্রলীগ সভাপতি সাইফুর রহমান সোহাগ এবং সাধারণ সম্পাদক এস এম জাকির হোসাইনের স্বাক্ষর করা বিবৃতিতে ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শকে মাধ্যমিক পর্যায়ের ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে এবং বাংলাদেশে ছাত্রলীগকে আরও গতিশীল ও বেগবান করার লক্ষ্যে’ এই কমিটি গঠনের নির্দেশ দেওয়া হয়। কমিটি গঠনসংক্রান্ত বিষয়ে সার্বিক তত্ত্বাবধানের দায়িত্ব দেওয়া হয় সংগঠনটির স্কুলছাত্রবিষয়ক সম্পাদক মো. জয়নাল আবেদীনকে।
সাইফুর রহমান সোহাগ বলেন, ‘ছাত্রসংগঠন স্কুলে করাটা বরং ভালো। কেননা এর ফলে শিক্ষার্থীদের রাজনৈতিক জ্ঞান বৃদ্ধি পায়।’ তিনি বলেন, ছাত্রলীগের জন্মের পর থেকেই স্কুলে তাদের কমিটি আছে।
এখন কত স্কুলে কমিটি আছে, সেই সংখ্যা বলতে না পারলেও তিনি জানান, বিশেষ করে ফেনী, নোয়াখালী অঞ্চলের অনেক স্কুলে তাদের কমিটি আছে। আর নতুন করে বিজ্ঞপ্তি দেওয়ার কারণ তাঁর মতে, এসব সংগঠনের সংখ্যা বাড়ানো।
সোহাগের মতোই স্কুলে সংগঠনের কমিটি করার মধ্যে কোনো ‘অনৈতিকতার’ কিছু দেখেন না জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সভাপতি রাজীব হাসান। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, দেশের উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন জায়গায়, বরিশাল ও নোয়াখালীর বিভিন্ন জায়গায় তাঁদের কমিটি রয়েছে। ছাত্রদলের স্কুলবিষয়ক একটি সম্পাদকের পদ আছে বলে জানান রাজীব।
বাম ধারার ছাত্রসংগঠন বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক লিটন নন্দী জানান, অষ্টম শ্রেণির পর থেকে সংগঠন করার নিয়ম আছে তাদের সংগঠনে। এই রীতিও পুরোনো। আর স্কুলে সংগঠন করার বিষয়টি তাদের গঠনতন্ত্রেই রয়েছে।
অধ্যাপক মনজুরুল ইসলাম বলেন, ‘আমাদের বড় দুই দল আদর্শহীন রাজনীতি করে। এই আদর্শহীনতা স্কুলের শিক্ষার্থীদের মধ্যে যাওয়া মোটেও উচিত নয়।’ স্কুল পর্যায়ে কমিটি বন্ধ করতে তিনি সরকারের প্রতি আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ‘আমাদের জাতীয় রাজনীতিতে একে অন্যকে গালিগালাজ করা, দোষারোপ করা একটি সহজাত অভ্যাস। একজন শিক্ষার্থী কি এসব শিখবে ছোটবেলাতেই?’ তিনি বলেন, স্কুলে কমিটি করার অর্থ হলো এসব মূলধারার বা সরকারি দল সমর্থক সংগঠনের শিক্ষার্থীরা প্রশ্ন ফাঁস করা শিখবে।
বাম সংগঠনের প্রতিও সৈয়দ মনজুরুলের আহ্বান কমিটি করা থেকে বিরত থাকার। তিনি বলেন, যে কাঠামোর মধ্যে এসব সংগঠন চলছে, সেখানে সংগঠন করার কোনো দরকার নেই। তারা কী শিক্ষার্থীদের বিতর্ক করতে শেখাবে, আবৃত্তি করতে শেখাবে? স্কুলে এগুলোই দরকার। তাদের রাজনীতির দরকার নেই। উচ্চমাধ্যমিক পাসের পর উচ্চ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে রাজনীতি শেখার যথেষ্ট সময় আছে।

gravatar

শেখ হাসিনা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠায় সংসদে বিল

শেখ হাসিনা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠায় সংসদে বিল

নিজস্ব প্রতিবেদক-

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নামে নেত্রকোণায় একটি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠায় আইনের খসড়া সংসদে উত্থাপন করা হয়েছে।
মঙ্গলবার ‘শেখ হাসিনা বিশ্ববিদ্যালয় বিল-২০১৭’ সংসদে উত্থাপন করেন শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ।
বিলটি ৪৫ দিনের মধ্যে পরীক্ষা করে সংসদে প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে পাঠানো হয়েছে।
নেত্রকোনায় শেখ হাসিনার নামে বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠায় বিল উত্থাপনের এক দিন আগেই তার মায়ের নামে জামালপুরে বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিল সংসদে পাস হয়।
বাংলাদেশে বর্তমানে ৪০টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে। নতুন দুটি বিশ্ববিদ্যালয় হলে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের সংখ্যা হবে ৪২টি।
শেখ হাসিনার নামে বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার কারণ সম্পর্কে শিক্ষামন্ত্রী নাহিদ বলেন, “উচ্চশিক্ষার বিভিন্ন ক্ষেত্রে অগ্রসরমান বিশ্বের সাথে সঙ্গতি ও সমতা অর্জন এবং জাতীয় পর্যায়ে উচ্চশিক্ষা ও গবেষণা, বিশেষ করে বিভিন্ন ক্ষেত্রে আধুনিক জ্ঞানচর্চা ও পঠন-পাঠনের সুযোগ সৃষ্টি ও সম্প্রসারণের নিমিত্তে প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণার আলোকে শিক্ষা মন্ত্রণালয় হতে নেত্রকোণা জেলায় একটি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।”
মন্ত্রী বলেন, “উচ্চ শিক্ষার বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিভিন্ন বিষয়ে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পর্যায়ে শিক্ষা, গবেষণা ও প্রশিক্ষণ এবং সম্প্রসারণ কার্যক্রমের অগ্রগতিকল্পে এবং এ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজনেস ইনকিউবেটরের মাধ্যমে দেশে ও বিদেশে তথ্য প্রযুক্তি খাতে নতুন নতুন উদ্যোক্তা সৃষ্টি, কর্মসংস্থান সম্প্রসারণ করে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির মাধ্যমে নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই দেশকে উন্নত দেশে রূপান্তর করার লক্ষ্যে ‘শেখ হাসিনা বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ’ স্থাপন করা অতীব প্রয়োজন ও যুক্তিযুক্ত।”
এদিকে শেখ হাসিনার নামে পটুয়াখালীর পায়রা নদীর তীরে এক হাজার ৫৩২ একর জমিতে একটি সেনানিবাস তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

gravatar

৭ মার্চের ভাষণের স্বীকৃতি ইতিহাসের প্রতিশোধ: শেখ হাসিনা

৭ মার্চের ভাষণের স্বীকৃতি ইতিহাসের প্রতিশোধ: শেখ হাসিনা

নিজস্ব প্রতিবেদক

একাত্তরে বাঙালিকে স্বাধীনতার সংগ্রামের দিশা দিয়েছিল যে ভাষণ, তা প্রচার দীর্ঘ সময় স্বাধীন দেশে ছিল কার্যত বন্ধ; এই প্রেক্ষাপটে বঙ্গবন্ধুর সেই ভাষণের বৈশ্বিক স্বীকৃতিকে ইতিহাসের প্রতিশোধ বলেছেন বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা।
যে স্থানটিতে দাঁড়িয়ে জাতির জনক শেখ মুজিবুর রহমান বলেছিলেন, ‘এবারের সংগ্রাম মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম’; তার ভাষণের বৈশ্বিক স্বীকৃতি উদযাপনে সেখানেই শনিবার হয় সমাবেশ।
‘জয় বাংলা’ স্লোগানে মুখর সেই সমাবেশে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, “ইতিহাস প্রতিশোধ নেয়। ইতিহাস সত্যকে তুলে ধরে। যতই তা মুছতে চেষ্টা করুক; ইতিহাস তার সত্য স্থানটা অবশ্যই করে নেবে। আজকে সেই স্বীকৃতি বাংলাদেশ পেয়েছে।”
বিভিন্ন দেশের আরও ৭৭টি ঐতিহাসিক নথি ও প্রামাণ্য দলিলের সঙ্গে বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের সেই ভাষণকেও গত মাসের শেষে ‘ডকুমেন্টারি হেরিটেজ’ হিসেবে ‘মেমোরি অফ দ্য ওয়ার্ল্ড ইন্টারন্যাশনাল রেজিস্টারে’ যুক্ত করে নেয় ইউনেস্কো।
জাতিসংঘ সংস্থাটির এই সিদ্ধান্তে বাংলাদেশ, বাঙালি জাতি, মুক্তিযুদ্ধের সব শহীদ, সব মুক্তিযোদ্ধা, মুক্তিযুদ্ধের সপক্ষের শক্তিও সম্মানিত হয়েছে বলে শেখ হাসিনা উল্লেখ করেন।
নাগরিক কমিটির ব্যানারে আয়োজিত এই সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দেওয়া বঙ্গবন্ধুকন্যা স্বাধীনতাবিরোধী শক্তির ফের মাথাচাড়া দিয়ে ওঠা ঠেকাতে দেশবাসীকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বানও জানান।
স্বাধীন দেশে পঁচাত্তরে বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর বিভিন্ন সরকার এলে-গেলেও ৭ মার্চের সেই ভাষণ বর্জিত ছিল রাষ্ট্রীয় প্রচার মাধ্যমে। এই অবস্থা চলে ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় ফেরার আগ পর্যন্ত।
সেই প্রেক্ষাপট তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, “যতই তারা বঙ্গবন্ধুর নাম মুছতে চেয়েছে, যতই তারা এই ভাষণ বন্ধ করতে চেয়েছে.. তারা স্বাধীনতার চেতনা মুছে ফেলতে পারে নাই।
“আমাদের দুর্ভাগ্য; এই বাংলাদেশের তারাই.. তারাই জাতির পিতাকে হত্যা করল। তারাই এই ঐতিহাসিক ভাষণ মুছে ফেলার চেষ্টা করলো। এই ভাষণ নিষিদ্ধ করল।”
পঁচাত্তর পরবর্তীতে যারা ক্ষমতা নিয়েছিলেন, তারা কেউই জন্মসূত্রে ‘বাংলাদেশি নয়’, বলেন আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা।
“পঁচাত্তরের পর অবৈধভাবে যারা ক্ষমতা দখলের পালা শুরু করেছিল, যারা এই মাটিতে জন্মগ্রহণ করেনি, এই মাটি ও দেশের প্রতি কোনো রকম টানই যাদের ছিল না; তারাই জাতির পিতার নাম মুছতে চেষ্টা করেছিল।”
জাতির জনকের এই ঐতিহাসিক ভাষণকে ইতিহাস থেকে মুছে ফেলতে যারা চেয়েছিল, তার বৈশ্বিক স্বীকৃতিতে তারা এখন লজ্জিত কি না, সেই প্রশ্ন করেন শেখ হাসিনা।
“যারা এই ভাষণ বাজাতে বাধা দিয়েছিল, যারা জাতির পিতার নাম মুছতে চেষ্টা করেছিল.. আজকে যখন ইউনেস্কো এই ভাষণকে ঐতিহাসিক দলিলের স্বীকৃতি দিয়েছে, তাদের কি এখন লজ্জা হয় না?
“জানি না, তাদের লজ্জা আছে কি না? কারণ, এরা তো পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর প্রেতাত্মা। স্বাধীন বাংলাদেশে থাকলেও তারা পাকিস্তানের তোষামোদের দল। তাই তারা ইতিহাস বিকৃতি করতে চেয়েছিল।”
যারা বাংলাদেশের স্বাধীনতার ইতিহাস বিকৃত করেছিল, তারা যেন কখনোই আর দেশের ক্ষমতায় না ফিরতে পারে, সেজন্য সবাইকে সজাগ থাকার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।
“আজকে একটাই অনুরোধ থাকবে, আর যেন কখনও ওই পাকিস্তানের প্রেতাত্মা, পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর পদলেহনকারী, চাটুকারের দল বাংলাদেশের ইতিহাস বিকৃত করার সুযোগ না পায়। তার জন্য বাংলাদেশের মানুষকে জাগ্রত হতে হবে।”
“আজকে আমরা সারা বিশ্বে গর্বিত জাতি। এই উন্নত শির যেন আর অবনত না হয়; সমগ্র বাঙালি জাতিকে সেইভাবেই নিজেদের গড়ে তুলতে হবে। এগিয়ে যেতে হবে সামনের দিকে।”
অধ্যাপক আনিসুজ্জামানের সভাপতিত্বে এই সমাবেশে বক্তব্য রাখেন শহীদ জায়া শ্যামলী নাসরীন চৌধুরী, অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম, অধ্যাপক মুহম্মদ জাফর ইকবাল, সাংবাদিক গোলাম সারওয়ার।
বাংলাদেশে ইউনেস্কোর আবাসিক প্রতিনিধিও অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন। ইউনেস্কোকে ধন্যবাদ জানিয়ে বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।
শেখ হাসিনা এসে পৌছালে জাতীয় সংগীতের মধ্য দিয়ে সমাবেশ শুরু হয়। চার ধর্মগ্রন্থ থেকে পাঠের পর শিল্পকলা একাডেমির শিল্পীরা তিনটি দেশাত্মবোধক গান গেয়ে শোনান।
এরপর বাংলাদেশের ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ দিনটি নিয়ে নিজের লেখা কবিতা ‘স্বাধীনতা এ শব্দটি কীভাবে আমাদের হলো’ আবৃত্তি করেন নির্মলেন্দু গুণ।
রামেন্দু মজুমদার ও নুজহাত চৌধুরীর সঞ্চালনায় এরপর বক্তব্যের মাঝে মাঝে গানে গানে আবর্তিত হয় অনুষ্ঠান। গান গেয়ে শোনান শাহীন সামাদ, মমতাজ ও সাজেদ আকবর। আবৃত্তি করেন আসাদুজ্জামান নূর।
সমাবেশের জন্য সোহরাওয়ার্দীতে মঞ্চ বানানো হয় আওয়ামী লীগের নির্বাচনী প্রতীক নৌকার আদলে। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের জন্য সামনে ছিল আলাদা একটি মঞ্চ।
সমাবেশে যোগ দিতে শনিবার সকাল থেকে ঢাকা ও এর আশপাশের এলাকা থেকে আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের মিছিল ছিল সোহরাওয়ার্দী উদ্যান পানে। পাশাপাশি বিভিন্ন পেশা এবং শিক্ষার্থীরাও জড়ো হন সেখানে।
বাস, ট্রাকসহ বিভিন্ন যানবাহনে মিছিল আসছিল; বাদ্যযন্ত্র নিয়ে নেচে-গেয়ে যোগ দেন অনেকে। তাদের হাতে ছিল বিভিন্ন ব্যানার-ফেস্টুন, অনেকের গায়ে একই রঙের টি-শার্ট, মাথায় একই রঙের ক্যাপ।
সমাবেশের কারণে ওই এলাকায় গাড়ির চাপ কমাতে রূপসী বাংলা হোটেলের মোড়, কাকরাইল মসজিদ মোড়, জিপিও মোড়, গোলাপ শাহ মাজার, ঢাকা মেডিকেলের মোড় এবং নীলক্ষেত মোড় এলাকায় মিছিলবাহী গাড়ি আটকে দেয় পুলিশ। ফলে এই সব স্থান থেকে নেমে হেঁটে যেতে হয় উদ্যানে।
এই সমাবেশের কারণে ছুটির দিনেও ফার্মগেইট থেকে শুরু করে বাংলামোটর, কাকরাইল, মগবাজার, পল্টন এলাকায় যানজটের সৃষ্টি হয়।
সাড়ে চার দশক আগে বাংলাদেশের স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষা যখন চূড়ান্ত পর্যায়ে, সেই ১৯৭১ সালের ৭ মার্চ এই সোহরাওয়ার্দী উদ্যানেই (তখন নাম ছিল রেসকোর্স ময়দান) ৭ কোটি বাঙালিকে যুদ্ধের প্রস্তুতি নেওয়ার আহ্বান জানান বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। তিনি ঘোষণা দেন, “এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম- এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম।”
তার ওই ভাষণের ১৮ দিন পর পাকিস্তানি বাহিনী বাঙালি নিধনে নামলে বঙ্গবন্ধুর ডাকে শুরু হয় প্রতিরোধ যুদ্ধ। নয় মাসের সেই সশস্ত্র সংগ্রামের পর আসে বাংলাদেশের স্বাধীনতা।

gravatar

সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের নাগরিক সমাবেশে হবে আওয়ামীলীগের বিশাল গনসমাবেশ।

সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের নাগরিক সমাবেশে হবে আওয়ামীলীগের বিশাল গনসমাবেশ।

ঢাকায় সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের নাগরিক সমাবেশে বিশাল গণজমায়েত ঘটানোর প্রস্তুতি নিয়েছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। এ সমাবেশকে সাম্প্রতিক কালের সর্ববৃহৎ সমাবেশে পরিণত করার প্রত্যাশা করছে দলটি।
বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণকে জাতিসংঘের শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতি সংস্থা (ইউনেস্কো) ঐতিহাসিক দলিল হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ায় আজ শনিবার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে এই নাগরিক সমাবেশের আয়োজিত হচ্ছে।
সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন আওয়ামীলীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সমাবেশকে রাজনৈতিক দিক থেকেও গুরুত্বপূর্ণ বিবেচনা করছে আওয়ামী লীগ। এ কারণে সমাবেশে ব্যাপক গণজমায়েতের মাধ্যমে বিশাল জনসমাবেশে রূপ দিতে আগে থেকেই প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
এর আগে গত ১২ নভেম্বর দীর্ঘদিন পর রাজধানীতে বড় ধরনের সমাবেশ করে আওয়ামী লীগের প্রধান রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ বিএনপি। সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে এই সমাবেশের মাধ্যমে নির্বাচনকে সামনে রেখে সারা দেশ থেকে নেতাকর্মী এনে ঢাকায় শো-ডাউন করেছে দলটি।
আজ সোহওয়ার্দী উদ্যানে আওয়ামী লীগের নাগরিক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ভাষণের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি অর্জন নিয়ে আয়োজিত এই সমাবেশকে রাজনৈতিক কাউন্টার বা পাল্টা শো-ডাউন নয় বলে দাবি করছে ক্ষমতাসীন দল।
তবে দেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে এ ধরনের একটি নাগরিক গণজমায়েত আওয়ামী লীগের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিবেচনা করা হচ্ছে।
শুক্রবার (১৭ নভেম্বর) নাগরিক সমাবেশের মঞ্চ প্রস্তুত কাজ দেখতে যান আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।
এ সময় তিনি বলেন, স্বাধীনতায় বিশ্ববাসী দেশের প্রতিটি নাগরিক, যারা বঙ্গবন্ধুকে ভালবাসে তারা সবাই এই নাগরিক সমাবেশে যোগ দেবে বলে আমরা আশা করছি। সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের এই সমাবেশ এ যাবতকালে সবচেয়ে বড় সমাবেশ হবে। এটা আওয়ামী লীগের সমাবেশ না, বঙ্গবন্ধুর ভাষণ বিশ্বের ঐতিহাসিক দলিল হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়ায় নাগরিক সমাজ এই সমাবেশের আয়োজন করেছে।
আওয়ামী লীগের দায়িত্বশীল নেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, আগামী নির্বাচনকে সামনে রেখে এবং বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটের বিভিন্ন সমীকরণে জনসভা, সমাবেশের মতো বড় বড় গণজমায়েতের কর্মসূচির ওপর জোর দেওয়া হবে। প্রতি বছরই আওয়ামী লীগ বিজয় দিবসে রাজধানীতে বিজয় র্যালির আয়োজন করে। এবারের বিজয় দিবসের র্যালিতে বড় ধরনের শো ডাউনের চিন্তা-ভাবনা রয়েছে। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস ১০ জানুয়ারি বড় ধরনের গণজমায়েতের প্রস্তুতি নেওয়া হবে। রাজধানীতে এ ধরনের গণজমায়েতের পাশাপাশি বিভাগীয় ও জেলা শহরেও বড় বড় গণজমায়েতের কর্মসূচি নেওয়া হবে। বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ভাষণের স্বীকৃতিও একটি ঐতিহাসিক বিষয়। তাই এই গণজমায়েতকেও ঐতিহাসিক রূপ দিতে চায় আওয়ামী লীগ।
নাগরিক সমাবেশ সম্পর্কে জানতে চাওয়া হলে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ বলেন, বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণ আমাদের স্বাধীনতার অস্তিত্ব। বাঙালিকে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণের মূল মন্ত্র হিসেবে কাজ করেছিলো। এই ভাষণ বিশ্বে ঐতিহাসিক দলিল হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়ায় নাগরিক সমাজ এই নাগরিক সমাবেশের আয়োজন করেছে। এটা আমাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
এ বিষয়ে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শাহে আলম মুরাদ বলেন, ব্যাপক ও বিশাল জনসমাগম ঘটানো হবে এই নাগরিক সমাবেশে। আমরা প্রতিটি থানা, ওয়ার্ড ও ইউনিয়নে কর্মীসভা, বর্ধিত সভা করে বলে দিয়েছি সর্বচ্চো জমায়েত নিয়ে আসতে। ব্যাপক প্রচার চালানো হয়েছে। নেতাকর্মী সমর্থকরা উৎসবমুখর পরিবেশে সমাবেশে অংশ নেবেন।
ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সাদেক খান বলেন, নাগরিক সমাবেশে জনসমাগম ঘটাতে বিশাল প্রস্তুতি নিয়েছি আমরা। আমরা থানা, ওয়ার্ডে বর্ধিত সভা করেছি। সমাবেশে ব্যাপক গণজমায়েত হবে।

gravatar

রোহিঙ্গা: আন্তর্জাতিক মহলের জরুরি পদক্ষেপ চায় সিপিএ।

রোহিঙ্গা সঙ্কট সমাধানে জরুরি পদক্ষেপ নিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে কমনওয়েলথ পার্লামেন্টারি অ্যাসোসিয়েশন (সিপিএ)।
মঙ্গলবার বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে সিপিএর ৬৩তম সম্মেলনের শেষ দিনে সাধারণ অধিবেশনে এ সংক্রান্ত একটি প্রস্তাব সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত হয়েছে।
প্রস্তাবে বলা হয়েছে, “কমনওয়েলথ দেশগুলোর পার্লামেন্ট সদস্যরা সর্বসম্মতিক্রমে মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের ওপর সংঘটিত নৃশংসতার, যা গণহত্যার শামিল, নিন্দা জানাচ্ছে এবং অবিলম্বে মিয়ানমারকে তাদের নাগরিকদের ফিরিয়ে নেওয়ার দাবি জানাচ্ছে।”
নিরাপত্তা ও মর্যাদার সঙ্গে রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিয়ে পুনর্বাসন এবং এই সংকটের স্থায়ী সমাধানের জন্য কফি আনান কমিশনের সুপারিশের আলোকে তাদের নাগরিকত্ব দিতে মিয়ানমারের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে ওই প্রস্তাবে।
মিয়ানমার যাতে এই ব্যবস্থা নেয় সেজন্য জরুরি পদক্ষেপ নিতে এতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।
এই বিবৃতি সিপিএভুক্ত সব পার্লামেন্ট সদস্য, জাতিসংঘের মহাসচিব এবং সংশ্লিষ্ট আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক সংস্থায় পাঠানোর জন্য সিপিএ মহাসচিবকে বলা হয়েছে।
একইসঙ্গে মিয়ানমারে এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে সিপিএ’র পরবর্তী সম্মেলনের সাধারণ অধিবেশনে তা উত্থাপন করতে বলা হয়েছে।
মিয়ানমারের রাখাইনে সেনাবাহিনীর দমন-পীড়নের মুখে গত ২৫ অগাস্ট থেকে ছয় লাখের বেশি রোহিঙ্গা ঘর-বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে। ১৯৭৮ সাল থেকে বিভিন্ন সময়ে আসা আরও চার লাখের বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশে রয়েছে।
রোহিঙ্গাদের ওপর নিপীড়ন বন্ধে দেশটির সরকার ও সেনাবাহিনীর প্রতি জাতিসংঘ, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্যসহ বিভিন্ন দেশ ও সংস্থা আহ্বান জানালেও পরিস্থিতির উন্নতি হয়নি। রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন নিয়ে আলোচনার জন্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান কামালের নেতৃত্বে বাংলাদেশের একটি প্রতিনিধি দল গত মাসে মিয়ানমার সফর করে এলেও কোনো অগ্রগতি দৃশ্যমান হয়নি।
মাস দুয়েকের মধ্যে বিপুল সংখ্যক মানুষের শরণার্থী হওয়া নিয়ে বিশ্বব্যাপী আলোচনার মধ্যে ঢাকায় সিপিএ সম্মেলনে যোগ দেন প্রায় অর্ধশত দেশের জাতীয় ও প্রাদেশিক সংসদের ৫৬ জন স্পিকার, ২৩ জন ডেপুটি স্পিকার এবং সংসদ সদস্যসহ সাড়ে পাঁচশর মতো প্রতিনিধি।
সম্মেলনের শেষদিন সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার পরে সিপিএ মহাসচিব আকবর খান অধিবেশনে রোহিঙ্গাদের নিয়ে বিবৃতিটি উপস্থাপন করেন। এ সময় চেয়ারপার্সন শিরীন শারিমন চৌধুরী বিষয়টি ফ্লোরে ছেড়ে দিলে মালয়েশিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকা, বাংলাদেশ, সেন্ট ভিনসেন্ট অ্যান্ড গ্রানাডাসহ সাত দেশের প্রতিনিধি আলোচনায় অংশ নেন।
মালয়েশিয়ার প্রতিনিধি বলেন, “আমাদের পক্ষ থেকে এ ধরনের সুপারিশকে সাধুবাদ জানাই। আমরা আশা করি, এর মাধ্যমে বিশ্ব সম্প্রদায়কে একটি বার্তা দিতে পারছি। কক্সবাজারের রোহিঙ্গা শিবির পরিদর্শন করেছি। শিগগির মিয়ানমারে একটি প্রতিনিধি দল পাঠানো যায় কি না দেখব।”
বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলের প্রধান ফজলে রাব্বি মিয়া সিপিএ’র উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, “এখানে রেজুলেশন নেওয়ার সুযোগ ছিল না। কিন্তু এরপরও নানা পরিক্রমা পেরিয়ে বিবৃতি গ্রহণ করায় সবাইকে ধন্যবাদ।”
বারবাডোজের প্রতিনিধি সিপিএ এর মতো ফোরামে এ ধরনের প্রস্তাব নেওয়ার এখতিয়ার আছে কি না সে প্রসঙ্গ টানেন।
দক্ষিণ আফ্রিকার প্রতিনিধি পুরো বিবৃতির প্রতি সংহতি প্রকাশ করেন।
এসময় উপস্থিত আরেকজন প্রতিনিধি অধিবেশনে চেয়ারপার্সনের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, “ইতোমধ্যে রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়ে বিবৃতিটি এডপ্ট করা হয়েছে। আর এ নিয়ে উন্মুক্ত আলোচনার দরকার নেই। আমাদের সবার সম্মতি রয়েছে।”
তার এই বক্তব্যের পর চেয়ারপার্সন সবার কাছে এ বিষয়ে মতামত চান। উপস্থিত সিপিএ প্রতিনিধিরা সর্বসম্মতিক্রমে প্রস্তাবটি গৃহীত হওয়ার বিষয়ে সমস্বরে ‘হ্যাঁ’ সূচক সম্মতি দেন।
এরপরই সবাইকে ধন্যবাদ জানিয়ে এবারের সিপিএ সম্মেলনের সমাপ্তি টানেন শিরীন শারমিন চৌধুরী। এসময় নবনির্বচিত চেয়ারপার্সনও (বর্তমান কমিটির ভাইস চেয়ারপার্সন) মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন।